ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে ময়মনসিংহের এক তরুণীকে ভারতে পাঠানোর কথা বলে সাতক্ষীরায় এনে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কালীগঞ্জ উপজেলার কাঠুনিয়া গ্রামের মেহেদি হাসান ওরফে সবুজ (২৪), তার ভাই সাকিব হোসেন (২০) এবং গোলাম রসুল ওরফে রাকিব (২১)।
চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী তরুণী জানান, তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন মডেল ও সৌন্দর্যচর্চা বিশেষজ্ঞ। কিছুদিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কাঠুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রসুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রসুল তাকে ভারতে মডেলিং ও সৌন্দর্যচর্চা সংক্রান্ত কাজের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কাজের সুযোগ পাওয়ার আশায় ২২ মার্চ তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে আসেন।
সেখানে পৌঁছানোর পর কালীগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে গোলাম রসুল ও মেহেদি হাসান তাকে মেহেদির বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর রোববার তাকে কদমতলা গ্রামের আমিনুল ইসলামের বাড়িতে নেওয়া হয়, যেখানে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অচেতন করা হয়। এরপর একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন সোমবার তাকে শ্যামনগর উপজেলার কুলতলী গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আবারও একই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ফের তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে সুযোগ পেয়ে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। খবর পেয়ে পুলিশ কালীগঞ্জের মেহেদির বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী তরুণী ছয়জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
এদিকে সাতক্ষীরার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী তরুণী শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক সোমা রানী দাস। তার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।