ইয়েমেনে সবচেয়ে বড় হামলা চালালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার রাতে দেশটির রাজধানী সানা ও সাদা প্রদেশসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০টি বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেসব হামলা এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে, ভূমিকম্পের মতো কেঁপে কেঁপে ওঠে ওইসব অঞ্চল। নারী-শিশুসহ প্রাণ হারান অন্তত ৩১ জন।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে নিজে ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান ট্রাম্প। রেড সি-তে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজে ইয়েমেনের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হুতি বাহিনীর একের পর এক হামলার জবাবে ওই বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
সম্প্রতি ইসরাইল গাজায় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা প্রবেশ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর নতুন করে হামলার হুমকি দেয় ইয়েমেনের প্রতিরোধ গোষ্ঠী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। ইরানের মদদপুষ্ট এই যোদ্ধারা ইসরাইলি ও মার্কিন স্বার্থে হামলা বন্ধ না করলে তাদের ওপর নরকের আজাব নেমে আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, ইরানের অর্থায়নে চলা এই যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। মার্কিন সেনা ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। এভাবে চলতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। একই সাথে ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা যেন এই যোদ্ধাদের মদদ না দেয়, অন্যথায় তেহরানকে জবাবদিহি করতে হবে।
শনিবারের হামলা এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রই চালায়। তবে যুক্তরাজ্য বিমানগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান থেকে উড্ডয়ন করে বিমানগুলো। অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজারও অংশ নেয়। এছাড়া ওই অঞ্চলে ইউএসএস জর্জিয়া ক্রুজ মিসাইল সাবমেরিনও মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে শনিবারের ওই হামলার জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হুতি বাহিনী। ওই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর ব্যাপক বদলা নেয়ার হুঁশিয়ারি জানিয়েছে তারা। একই সাথে মার্কিনীদের মোকাবেলার জন্য তারা প্রস্তুত বলে জানায়।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। বড় আকারের হামলা-পাল্টা হামলা চলতে থাকলে তা যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এতে করে আরো বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবেশ করবে খাদের কিনারে থাকা মধ্যপ্রাচ্য।